"নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য"। গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা- SR-Media24

Views


[সুরা-মুমিন, আয়াত-৭৭/৭৮ তফসীর]
-----------------------------------------------------
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম-
-----------------------------------------
আল্লাহ তা'আলা বলেন-
----
"সুতরাং তুমি ধৈর্য ধর। নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য।
অত:পর আমি কাফিরদেরকে যে শাস্তির প্রতিশ্রুতি দেই, তার কিছু যদি তোমাকে দেখিয়ে দেই, অথবা তোমাকে মৃত্যু দান করি, সর্বাবস্থায় তাদেরকে তো আমারই কাছে ফিরে আসতে হবে। (৭৭)
আর আমি তো তোমার পূর্বেও অনেক রসূল পাঠিয়েছিলাম। তাদের মধ্যে কারো কারো কাহিনী আমি তোমার কাছে বর্ণনা করেছি, তাদের মধ্যে কারো কারো কথা আমি তোমার কাছে বর্ণনা করিনি। আল্লাহর অনুমতি ছাড়া, কোন নিদর্শন (মু'জিযা প্রকাশ) নিয়ে আসা কোন রসূলের পক্ষে সম্ভব নয়। আল্লাহর নির্দেশ যখন জারী হয়ে যায়, তখন ন্যায়সঙ্গতভাবে (বিষয়টির) ফয়সালা করা হয়। আর যারা মিথ্যার উপর দাঁড়িয়েছিল তারা তখনই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে।" (৭৮)
________[সুরা-মুমিন, আয়াত-৭৭/৭৮]_____
~~~
৭৭-৭৮ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা স্বীয় রাসূল (সঃ)-কে কাফিরদের তাঁকে অবিশ্বাস করার উপর ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দিচ্ছেন। তিঁনি বলেনঃ
"হে রাসূল (সঃ) ! যারা তোমার কথা মানছে না, বরং তোমাকে মিথ্যাবাদী বলছে, এবং তোমাকে এভাবে কষ্ট দিচ্ছে, তুমি এতে ধৈর্য ধারণ কর। তাদের উপর আল্লাহ তোমাকে জয়যুক্ত করবেন। পরিণামে সব দিক দিয়ে তোমারই মঙ্গল হবে। তুমি এবং তোমার অনুসারীরা সারা বিশ্বের উপর বিজয়ী থাকবে। আর আখিরাতের কল্যাণ তো শুধু তোমাদেরই জন্যে। জেনে রেখো যে, আমি তোমার সঙ্গে যে ওয়াদা করেছি তার কিছুটা আমি তোমার জীবদ্দশাতেই পূর্ণ করে দেখিয়ে দিবো। আর হয়েছিলও তাই। বদরের যুদ্ধের দিন কাফিরদের মস্তক দেহ হতে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছিল। কুরায়েশদের বড় বড় নেতা মারা গিয়েছিল। পরিশেষে রাসুলুল্লাহ (সঃ)-এর জীবদ্দশাতেই মক্কা বিজিত হয়। তিঁনি দুনিয়া হতে বিদায় গ্রহণ করেননি যে পর্যন্ত না সারা আরব উপদ্বীপ, তাঁর পদানত হয় এবং তার শত্রুরা তাঁর সামনে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয় এবং মহান আল্লাহ তাঁর চক্ষু ঠাণ্ডা করেন।
~~~
 আর যদি আল্লাহ তা'আলা স্বীয় রাসূল (সঃ)-কে মৃত্যুদান করে নিজের নিকট উঠিয়েও নেন,
তবুও তাদের এটা জেনে রাখা উচিত যে, তাদেরকে তাঁরই নিকট, প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তখন তিঁনি তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করাবেন।
~~~
এরপর আল্লাহ পাক স্বীয় রাসূল (সঃ)-কে আরো সান্ত্বনা দিতে গিয়ে বলেনঃ
"আমি তো তোমার পূর্বে অনেক রাসূল প্রেরণ করেছিলাম, তাদের কারো কারো কথা আমি তোমার নিকট বিবৃত করেছি, আর কারো কারো কথা তোমার নিকট বিবৃত করিনি। যেমন সূরায়ে নিসাতেও এটা বর্ণনা করা হয়েছে। সুতরাং যাদের ঘটনা আমি তোমার কাছে বর্ণনা করেছি, তাদের সাথে তাদের কওম কি দুর্ব্যবহার করেছিল এবং কিভাবে, মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল তা তুমি দেখে নাও ও বুঝে নাও ! আর তাদের কারো কারো ঘটনা আমি তোমার নিকট বিবৃত করিনি।”
~~~
এদের সংখ্যা তাদের তুলনায় অনেক বেশী। যেমন আমরা সূরায়ে নিসার তাফসীরে বর্ণনা করেছি।
সুতরাং প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা একমাত্র আল্লাহরই প্রাপ্য।
~~~
অতঃপর মহান আল্লাহ বলেনঃ
"আল্লাহর অনুমতি ছাড়া, কোন নিদর্শন বা মুজিযা দেখানো কোন রাসূলের কাজ নয়। হ্যা, তবে আল্লাহর হুকুম ও অনুমতির পর তারা তা দেখাতে পারেন। কেননা, নবীদের অধিকারে (এ বিষয়ের) কোন কিছুই নেই। যখন আল্লাহর আযাব কাফিরদের উপর এসে পড়ে তখন তারা, আর রক্ষা পেতে পারে না। মুমিনগন পরিত্রাণ পেয়ে যায় এবং মিথ্যাশ্রয়ীরা ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কোন মন্তব্য নেই

✔যদি ভালো লাগে অবশ্যই কমেন্ট করে আমাদের কে জানাবেন।
❌প্লিজ কেউ কেনো প্রকার আজে বাজে কমেন্ট করবেন না।

Blogger দ্বারা পরিচালিত.