"মুমিনেরা সুখের সময় কৃতজ্ঞ, ও দুঃখের সময় সবরকারী হয়"।

Views

"মুমিনেরা সুখের সময় কৃতজ্ঞ,ও দুঃখের সময় সবরকারী হয়"
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
[সুরা-শূরা, আয়াত-৪৭/৪৮ তফসীর]
---------------------------------------------------
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম,
------------------------------------------
আল্লাহ তা'আলা বলেন-
---
"তোমরা তোমাদের 'রবে'র ডাকে সাড়া দাও সেদিন আসার পূর্বে,
যে দিনের আগমন আল্লাহর তরফ থেকে (হবে)  অপ্রতিরোধ্য।
সেদিন তোমাদের জন্য কোন আশ্রয়স্থল থাকবে না, এবং
তোমাদের ব্যপারে কোন (অপরাধ)  নিবৃত্তকারীও থাকবে না। [৪৭]
এতদসত্ত্বেও তারা যদি মুখ ফিরিয়েই নেয় (তাহলে ফিরিয়ে নিক, কারণ)
আমি তোমাকে তাদের হিফাজতকারী বানিয়ে পাঠাইনি।
বাণী পৌঁছে দেয়াই তোমার দায়িত্ব।
আমি যখন মানুষকে আমার রহমত আস্বাদন করাই,
তখন সে উৎফুল্ল হয়।
আর যখন তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের কোন অনিষ্ট হয়,
তখন মানুষ অকৃতজ্ঞ হয়ে যায়।" [৪৮]
________[সুরা-শূরা, আয়াত-৪৭/৪৮]______
~~~
৪৭-৪৮ নং আয়াতের তাফসীর:
পূর্বে আল্লাহ তা'আলা বর্ণনা দিয়েছিলেন যে, কিয়ামতের দিন,
ভীষণ বিপজ্জনক ও ভয়াবহ ঘটনা ঘটবে। ওটা হবে কঠিন বিপদের দিন।
~~~
এখানে আল্লাহ তা'আলা ঐ দিনের ভয় প্রদর্শন করছেন,
এবং ওর জন্যে (লোকদেরকে) প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিচ্ছেন।
তিঁনি বলছেনঃ
"আকস্মিকভাবে ঐ দিন (তোমাদের উপর) এসে যাওয়ার পূর্বেই।
আল্লাহ তা'আলার ফরমানের উপর পুরোপুরি আমল কর।
যখন ঐদিন এসে পড়বে তখন তোমাদের কোন আশ্রয়স্থল মিলবে না,
এবং তোমরা,
এমন জায়গাও পাবে না যেখানে অপরিচিত ভাবে লুকিয়ে থাকবে,
কেউ তোমাদেরকে চিনতে পারবে না।
~~~
এরপর পরাক্রমশালী আল্লাহ স্বীয় নবী (সঃ)-কে বলেনঃ
"এই কাফির ও মুশরিকরা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তোমাকে তো আমি,
তাদের রক্ষক করে পাঠাইনি।
তাদেরকে হিদায়াত দান করা তো তোমার দায়িত্ব নয়।
তোমার কাজ শুধু তাদের কাছে আমার বাণী পৌঁছিয়ে দেয়া।
আমিই তাদের হিসাব গ্রহণ করবো। এ দায়িত্ব আমার।
মানুষের অবস্থা এই যে, আমি যখন তাদেরকে অনুগ্রহ আস্বাদন করাই,
তখন সে এতে উৎফুল্ল হয় এবং যখন তাদের কৃতকর্মের জন্যে
তাদের বিপদ-আপদ ঘটে তখন মানুষ হয়ে যায় অকৃতজ্ঞ।
ঐ সময় তারা পূর্বের নিয়ামতকেও অস্বীকার করে বসে।
~~~
যেমন হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সঃ) নারীদেরকে বলেছিলেনঃ
“হে নারীর দল ! তোমরা (খুব বেশী বেশী) দান-খয়রাত কর,
কেননা, আমি তোমাদের অধিক সংখ্যককে জাহান্নামে দেখেছি।
তখন একজন মহিলা বলেনঃ
“হে আল্লাহর রাসূল (সঃ) ! এটা কেন?”
উত্তরে তিনি বলেনঃ
“কারণ এই যে, তোমরা খুব বেশী অভিযোগ কর এবং
তোমরা স্বামীদের প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকো।
তোমাদের কারো প্রতি তার স্বামী যদি যুগ যুগ ধরে অনুগ্রহ করতে থাকে,
অতঃপর একদিন যদি তা ছেড়ে দেয় তবে অবশ্যই সে তার স্বামীকে বলবে-
‘তুমি কখনো আমার প্রতি অনুগ্রহ করনি।”
~~~
অধিকাংশ নারীদেরই অবস্থা এটাই, তবে আল্লাহ যার প্রতি দয়া করেন,
এবং সৎকাজের তাওফীক প্রদান করেন এবং প্রকৃত ঈমানের অধিকারিণী বানিয়ে দেন তার কথা স্বতন্ত্র।
যে প্রকৃত মুমিন হয়,
সেই শুধু সুখের সময় কৃতজ্ঞ ও দুঃখের সময় ধৈর্যধারণকারী হয়।
~~~
যেমন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ
“যদি সে সুখ ও আনন্দ লাভ করে তবে সে কৃতজ্ঞ হয়,
আর এটাই হয় তার জন্যে কল্যাণকর। আর যদি তার উপর
কষ্ট ও বিপদ-আপদ আপতিত হয় তখন সে ধৈর্যধারণ করে,
এবং ওটা হয় তার জন্যে কল্যাণকর। আর এই বিশেষণ মুমিন ছাড়া আর কারো মধ্যে থাকে না।”
[মুসলিম]
_________[তফসীর ইবনে কাসির]________

কোন মন্তব্য নেই

✔যদি ভালো লাগে অবশ্যই কমেন্ট করে আমাদের কে জানাবেন।
❌প্লিজ কেউ কেনো প্রকার আজে বাজে কমেন্ট করবেন না।

Blogger দ্বারা পরিচালিত.